Search
Products, Categories and Users
Current Affairs
শ্রমিক অসন্তোষ-পরবর্তী উৎপাদনে ফিরছে RMG খাত, চার মাসে রপ্তানি ১৩.৭১ বিলিয়ন ডলার; জ্বালানি ও কাঁচামাল সংকটে চাপে টেক্সটাইল শিল্প
TexBazar
08 Nov 2026
3 read

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের ইউনিট মূল্য হ্রাস, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সুতা বাজারের মূল্য সমন্বয় এবং শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ—এসব বিষয় শিল্পের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পাশাপাশি ডেনিম রপ্তানি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং গার্মেন্টস বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও উৎপাদন বিঘ্নের পর আজ রোববার থেকে দেশের প্রধান পোশাকশিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতি এবং উৎপাদন কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
তবে আশুলিয়ার অন্তত পাঁচটি কারখানা—মেডলার (Medlar), দ্য রোজ (The Rose), এন-বয় (N-Boy), নিটেশিয়া (Niteshia) ও এস২১ (S21)—এখনো উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধকে কেন্দ্র করে কারখানা কর্তৃপক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, বেতন পরিশোধের মাধ্যমে শ্রমিকদের মধ্যে চলমান অসন্তোষ আরও প্রশমিত হবে। সাম্প্রতিক উৎপাদন ঘাটতি ও শিপমেন্টের সময়সূচি সমন্বয়ে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে মজুরি কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
নতুন বোর্ডের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ এবং ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে তা কার্যকরের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
তবে শ্রমিকদের মজুরি প্রত্যাশা, কারখানার আর্থিক সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মূল্য—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত কাঠামো নির্ধারণ করা এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ ও শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতায় অর্থায়ন এবং সম্ভাব্য ইন্ধনের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, এনবিআরের দুটি গোয়েন্দা ইউনিট—সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (CIC) ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট—প্রায় ২২৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ব্যাংক লেনদেন পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের অন্তত ২৫টি গ্রুপ ব্যবহার করে অস্থিরতা সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে নগদ অর্থ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
অভ্যন্তরীণ শ্রম পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রদত্ত EPB ও BGMEA-সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৩.৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১২.৯৩ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.০৩ শতাংশ।
খাতভিত্তিক রপ্তানি চিত্র:
| পণ্যের ধরন | জুলাই-অক্টোবর ২০২৫ | জুলাই-অক্টোবর ২০২৬ | প্রবৃদ্ধি |
|---|---|---|---|
| Knitwear | $7.20 বিলিয়ন | $7.71 বিলিয়ন | 7.00% |
| Woven | $5.73 বিলিয়ন | $6.00 বিলিয়ন | 4.80% |
| Total RMG | $12.93 বিলিয়ন | $13.71 বিলিয়ন | 6.03% |
নিটওয়্যার খাতে তুলনামূলক বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও ওভেন খাতেও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে প্রায় ১৩.৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো প্রধান বাজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১১.৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য। জার্মানি, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডসহ ইউরোপের প্রধান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এ ছাড়া ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাজার বহুমুখীকরণ, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিত করা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অন্যতম বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কম মূল্য সংযোজনের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বা Low-Value Trap।
প্রকাশিত বাজার বিশ্লেষণে বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য প্রায় ৮.৪৭ শতাংশ কমে ১৩.৮০ ইউরোতে নেমে আসার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ভিয়েতনামসহ প্রতিযোগী কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাকের গড় মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসিক টি-শার্ট, ট্রাউজার্স, সাধারণ শার্ট ও অন্যান্য কম মূল্য সংযোজনের পণ্যের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে High-Value Apparel, Technical Textile, Functional Fabric, Sportswear এবং Man-Made Fibre-ভিত্তিক পণ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের ন্যায্য মূল্য আদায়ও গুরুত্বপূর্ণ।
দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর ব্যবসায়িক পরিস্থিতি এবং সুতার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (BTMA) নতুন মূল্য নির্দেশনা-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
সার্কুলারে Ne Cotton Carded Yarn-সহ বিভিন্ন কাউন্টের সুতার সর্বনিম্ন বিক্রয়মূল্য ও মূল্য নির্দেশিকার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
দেশীয় স্পিনিং শিল্প বর্তমানে তুলার আমদানি মূল্য, জ্বালানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য প্রতিযোগিতার চাপে রয়েছে। অন্যদিকে, নিটওয়্যার ও ওভেন উৎপাদকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দামে সুতা সংগ্রহ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এ অবস্থায় BTMA, BGMEA ও BKMEA-সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় স্থানীয় কাঁচামাল সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এখনো অন্যতম বড় উৎপাদনগত চ্যালেঞ্জ।
Fibre2Fashion-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে দৈনিক প্রায় ৪৫০-৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এর প্রভাবে স্পিনিং, ডাইং, ফিনিশিং ও ওয়াশিংসহ বিভিন্ন টেক্সটাইল প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ও এলপিজি ব্যবহারের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে টেক্সটাইল ও RMG খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের জন্য ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, EU বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি প্রায় ১২.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেনিম সরবরাহে বাংলাদেশ তার শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।
উন্নতমানের ডেনিম ফেব্রিক, পরিবেশবান্ধব ওয়াশিং প্রযুক্তি, পানি সাশ্রয়ী উৎপাদন এবং টেকসই কাঁচামালের ব্যবহার বাড়ানো গেলে এ খাতে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে Circular Economy গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘Cotton Loop’ নামে একটি নতুন উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে।
এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পোশাক কারখানায় উৎপাদিত ঝুট বা Garment Waste পুনর্ব্যবহার করে নতুন তুলাভিত্তিক কাঁচামাল ও সুতা উৎপাদনের জন্য একটি কার্যকর Circular Cotton Supply Chain গড়ে তোলা।
বিশ্ববাজারে পুনর্ব্যবহৃত কাঁচামাল, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, পানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের গুরুত্ব বাড়ছে। এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং শিল্পবর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, দেশের আরও চারটি তৈরি পোশাক কারখানা যুক্তরাষ্ট্রের U.S. Green Building Council (USGBC) থেকে LEED সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে।
এ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের কারখানাগুলোর পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, জ্বালানি দক্ষতা এবং টেকসই উৎপাদন সক্ষমতার ইতিবাচক পরিচিতি তুলে ধরে।
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে Green Factory, Renewable Energy, Water Recycling এবং Sustainable Waste Management-এ বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন BGMEA-তে নতুন সাতটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
১. Radical Design Limited
২. Stylomore Limited
৩. Fashion Floor BD Limited
৪. Afia Knitwear Limited
৫. M&M Composite Limited
৬. SN Fashion
৭. NKM Fashion Limited
নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে পোশাক খাতের প্রাতিষ্ঠানিক পরিসর সম্প্রসারণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের RMG ও Textile শিল্পের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও শিল্পের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী দিনের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে:
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে শুধু উৎপাদনের পরিমাণ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দিয়ে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা সম্ভব হবে না।
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, উৎপাদন ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, স্থানীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের উন্নয়ন এবং উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা—এসব বিষয়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
বিশেষ করে স্পিনিং, নিটিং, উইভিং, ডাইং, ফিনিশিং এবং গার্মেন্টস উৎপাদনের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা গেলে দেশীয় সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে বাংলাদেশের RMG ও Textile খাতের সামনে যেমন রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে, তেমনি রয়েছে উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি, শ্রমিক মজুরি এবং আন্তর্জাতিক মূল্য প্রতিযোগিতার কঠিন বাস্তবতা। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এখন প্রয়োজন উৎপাদন দক্ষতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক বাজারের চাহিদাভিত্তিক শিল্প রূপান্তর।
TexBazar News
Coverage: RMG | Textile | Yarn | Export | Trade & Industry