Search
Products, Categories and Users
Current Affairs
রপ্তানিতে পুনরুদ্ধারের আভাস, কাঁচামাল নীতিতে পরিবর্তন ও বৈশ্বিক চাপে বাংলাদেশের RMG-টেক্সটাইল সেপ্টেম্বরের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি থেকে BATEXPO, গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং ও নতুন বাজার—পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প
TexBazar
06 Oct 2026
3 read

২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG), টেক্সটাইল ও সুতা শিল্পে একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে আশাবাদ ও অনিশ্চয়তার নতুন সমীকরণ। একদিকে সেপ্টেম্বর মাসে পণ্য রপ্তানিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পোশাক রপ্তানির ইতিবাচক ফলাফল, নতুন বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা; অন্যদিকে গ্যাস সংকট, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, কাঁচামাল আমদানির নীতিগত জটিলতা, রাশিয়ার বাজারে অর্থপ্রাপ্তির ঝুঁকি এবং ইউরোপের কঠোর পরিবেশ ও ট্রেসেবিলিটি বিধিমালা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরপর্বে অবস্থান করছে।
সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় ৮.৫৪ শতাংশ বেড়ে ৩.৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক খাত।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বাংলাদেশের RMG রপ্তানি ৬.১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ১০.৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ৬.৮৮ শতাংশ, আর ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৫.১১ শতাংশ।
বৈশ্বিক পোশাক বাজারে অর্ডার, মূল্যচাপ ও ভোক্তা চাহিদার অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। তারপরও পরপর কয়েকটি মাসের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি শিল্পে পুনরুদ্ধারের একটি প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করছে।
দেশীয় স্পিনিং শিল্পকে সুরক্ষা এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সরকারের নজরদারি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৪০০ বস্তা ৮০-কাউন্ট সুতা জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা কাঁচামাল নির্ধারিত রপ্তানি উৎপাদনে ব্যবহার না করে অবৈধভাবে স্থানীয় বাজারে প্রবেশ করানো হলে দেশীয় মিলগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (BTMA) এ ধরনের ঘটনায় জড়িত আমদানিকারক ও চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
শিল্পের দৃষ্টিতে বিষয়টি শুধু রাজস্ব আদায়ের নয়; বরং দেশীয় টেক্সটাইল ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের সক্ষমতা ও বিনিয়োগ সুরক্ষার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
দেশীয় স্পিনিং মিলকে সুরক্ষা দিতে ১০–৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে কড়াকড়ির উদ্যোগ নেওয়া হলেও পোশাক রপ্তানিকারকদের আপত্তির পর তা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে দেশীয় উৎস থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সুতা সংগ্রহের শর্ত বহাল রয়েছে।
এই নীতিগত ভারসাম্য এখন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একদিকে স্থানীয় স্পিনিং শিল্পের সক্ষমতা ও বিনিয়োগ রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দ্রুত কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে গুণমান, মূল্য, সরবরাহের ধারাবাহিকতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সুতা আমদানির নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার বাড়াতে নগদ প্রণোদনা ১.৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করার উদ্যোগ দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পে নতুন গতি তৈরি করতে পারে।
এতে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো স্থানীয় সুতা ও ফেব্রিক ব্যবহারে আরও আগ্রহী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর সম্ভাব্য প্রভাব হতে পারে—
স্থানীয় কাঁচামালের চাহিদা বৃদ্ধি → স্পিনিং ও উইভিং খাতে বিনিয়োগ → কর্মসংস্থান বৃদ্ধি → আমদানিনির্ভরতা কমানো → দেশের ভেতরে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি।
তবে এই সুবিধা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে স্থানীয় মিলগুলোর গুণমান, উৎপাদন সক্ষমতা এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি।
নিটওয়্যার রপ্তানিকারকদের জন্য বিদেশি ফেব্রিক ও নিট কাপড় আমদানির ক্ষেত্রে কিছু পূর্ববর্তী বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য ও স্পোর্টসওয়্যার উৎপাদনের জন্য সুতা ও নিটেড কাপড় আমদানিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদনের শর্তও শিথিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিল্প সংগঠনের সুপারিশের মাধ্যমে আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে দ্রুত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ট্রেন্ড অনুযায়ী বিশেষায়িত পোশাক তৈরির সক্ষমতা বাড়তে পারে।
এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা কেবল বেসিক টি-শার্ট বা কম-মূল্যের পোশাকে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি এখন দৃশ্যমান হচ্ছে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে।
সার্কুলারিটি, ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন ট্রেসেবিলিটি এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে ডাচ দূতাবাস ও Solidaridad-এর যৌথ উদ্যোগে নতুন প্রযুক্তিগত প্রকল্প শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি কারখানায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে Karotoa Green Spinning ছয় মেগাওয়াট রুফটপ সোলার সিস্টেম এবং পানি পুনর্ব্যবহারভিত্তিক ক্লোজড-লুপ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব সুতা উৎপাদনের নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশে LEED-certified green RMG factory-এর সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে ২৯০টি LEED-certified green RMG factory থাকার তথ্য আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের পরিবেশগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের সামনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো Supply Chain Traceability।
ESG, কার্বন ফুটপ্রিন্ট, Circularity এবং Digital Product Passport-এর মতো নতুন কাঠামোর কারণে শুধু পোশাক কারখানা নয়, সুতা, ফেব্রিক, ডাইং, কেমিক্যাল ও অন্যান্য ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ প্রতিষ্ঠানকেও তথ্যভিত্তিক ও স্বচ্ছ সাপ্লাই চেইনের আওতায় আনতে হবে।
দেশীয় রপ্তানিকারকদের বড় উদ্বেগ হলো—ছোট ও মাঝারি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ ও ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা।
ফলে DPP বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০২৭ সালের পর আরও বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
এখানে মূল বার্তা পরিষ্কার: ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক বাজারে শুধু পণ্য তৈরি করাই যথেষ্ট হবে না; পণ্যটি কোথায়, কীভাবে এবং কোন কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হয়েছে—তারও প্রমাণ দিতে হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অর্থপ্রবাহে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
BKMEA-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়ান ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের ছোট ও মাঝারি পোশাক রপ্তানিকারকদের এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আটকে রয়েছে।
বিকল্প হিসেবে কিছু ক্রেতা তুর্কি লিরা বা চীনা ইউয়ানে পেমেন্টের প্রস্তাব দিলেও এ ধরনের লেনদেনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি রয়েছে।
ফলে রাশিয়ার বাজারে ব্যবসা ধরে রাখার পাশাপাশি নিরাপদ, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পেমেন্ট চ্যানেল নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের LDC graduation সামনে রেখে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে ভবিষ্যৎ শুল্ক সুবিধা কতটা বজায় থাকবে।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, LDC থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে পারবে।
বাংলাদেশের RMG রপ্তানির অন্যতম প্রধান গন্তব্য যুক্তরাজ্য হওয়ায় এই সুবিধা রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি তৈরি করতে পারে।
তবে অন্যান্য বাজারে শুল্ক কাঠামো, Rules of Origin এবং কমপ্লায়েন্সের পরিবর্তন মোকাবিলায় এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে নতুন আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সম্ভাবনাও বাড়ছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় পাটের সুতা, ওষুধ, ডাইস ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয় উঠে এসেছে।
অন্যদিকে তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১.৩ বিলিয়ন থেকে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে আলোচনা চলছে।
বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে—
বাংলাদেশ যদি তুলাভিত্তিক পোশাকের পাশাপাশি MMF ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলে দ্রুত সক্ষমতা বাড়াতে পারে, তাহলে নতুন প্রজন্মের আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর আবারও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে BATEXPO 2026।
আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য এই প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, রিটেইলার ও বায়ারদের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
Primark-এর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
BATEXPO কেবল প্রদর্শনী নয়; বরং নতুন অর্ডার, দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতা সম্পর্ক, বিনিয়োগ ও বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।
১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে Textile Innovation Award 2026, যেখানে টেক্সটাইল খাতের টেকসই উদ্ভাবন ও নতুন ধারণাকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের পরবর্তী ধাপের প্রবৃদ্ধিতে automation, energy efficiency, recycling, digitalization এবং sustainable production-এর ভূমিকা আরও বাড়বে। সেই বাস্তবতায় শিল্পের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেওয়ার এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের গার্মেন্টস সাপ্লাই চেইনে জার্মান প্রতিষ্ঠান Wendler Interlining-এর নতুন উৎপাদন সুবিধা চালু স্থানীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।
দেশে উন্নতমানের interlining ও garment accessories উৎপাদন বাড়লে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি lead time কমানো এবং দ্রুত shipment দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।
আন্তর্জাতিক বায়ারদের কাছে speed-to-market এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বিষয়। সে কারণে স্থানীয় সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার অন্যতম পূর্বশর্ত।
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক পরিসংখ্যানের বিপরীতে মাঠপর্যায়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে রয়েছে গ্যাস সংকট।
বিশেষ করে spinning, knitting, dyeing ও finishing ইউনিটগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে উৎপাদন সরাসরি ব্যাহত হয়। এর প্রভাব পড়ে shipment schedule, production cost এবং buyer confidence-এর ওপর।
BTMA-সহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো শিল্পাঞ্চলে জোনাল গ্যাস রেশনিং ও অগ্রাধিকারভিত্তিক সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
একই সঙ্গে ব্যাংকিং ও LC-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনেও শিল্পের পক্ষ থেকে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
BGMEA University of Fashion & Technology (BUFT)-এর Board of Trustees পুনর্গঠন করা হয়েছে।
UGC-এর তদন্ত ও সুপারিশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২১ সদস্যের নতুন বোর্ড ঘোষণা করেছে। Vega Group-এর চেয়ারম্যান মেসবাহ উদ্দিন আলী নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
বাংলাদেশের RMG ও টেক্সটাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা অনেকাংশেই দক্ষ মানবসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্যাশন, টেক্সটাইল, প্রযুক্তি ও ম্যানেজমেন্ট শিক্ষা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
বাংলাদেশের RMG ও টেক্সটাইল শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতিকে এক কথায় বলা যায়—“Growth with Pressure”।
রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, নতুন বাজার, গ্রিন ফ্যাক্টরি, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং BATEXPO-এর মতো উদ্যোগ আশাবাদ তৈরি করছে। বিপরীতে জ্বালানি সংকট, পেমেন্ট ঝুঁকি, কাঁচামাল নীতি, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং LDC graduation-এর পরবর্তী প্রতিযোগিতা শিল্পের সামনে বড় পরীক্ষা তৈরি করছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ এখন আর শুধু কম শ্রমমূল্য বা বড় উৎপাদন সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল নয়।
আগামী দশকে প্রতিযোগিতার মূল ভিত্তি হবে—
উচ্চমূল্যের পোশাক + MMF + Technical Textile + Green Manufacturing + Digital Traceability + দ্রুত Lead Time + শক্তিশালী Local Backward Linkage।
সেপ্টেম্বরের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি শিল্পকে পুনরুদ্ধারের একটি ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে। এখন এই প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে হলে নীতির ধারাবাহিকতা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, স্বচ্ছ বন্ড ব্যবস্থাপনা, প্রতিযোগিতামূলক কাঁচামাল সরবরাহ, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন।
বাংলাদেশের RMG শিল্পের পরবর্তী অধ্যায় শুধু “More Garments” নয়—বরং “More Value, More Technology, More Sustainability”।
TexBazar News
RMG | Textile | Yarn | Apparel | Sustainability | Global Trade